সারাদেশ

অনুমোদন ছাড়াই মাধবপুরে আইসক্রিম কারখানা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের অভিযোগ

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩:৪৭:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ছাতিয়াইন বাজার হাসপাতাল সড়কসংলগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে নিখিল পাল নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কারখানার বিরুদ্ধে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে আইসক্রিম উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে আইসক্রিম তৈরিতে অনিরাপদ পানি, কৃত্রিম রং ও অনুমোদনহীন মিষ্টিকারক ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পরিচালিত হচ্ছে উৎপাদন কার্যক্রম। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে এসব আইসক্রিম বাজারজাত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা এফ জামান ফখরুল বলেন, খাবারে ব্যবহারের অনুপযোগী শিল্পকারখানার রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই কারখানায় ব্যবহৃত পানি ও উপকরণের মান পরীক্ষা এবং উৎপাদন পরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহাবুব রহমান বলেন, কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাদ্য শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উপকরণ ও উৎপাদন পরিবেশ পরীক্ষা করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুমোদন ছাড়া বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানার মালিক নিখিল পাল বলেন, “আইসক্রিম কারখানা চালাতে আমার কোনো অনুমোদন লাগে না। আমি প্রশাসন ম্যানেজ করে ব্যবসা করি।”

মালিকের এ বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, কারখানাটির বৈধ কাগজপত্র, খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অনুমোদন, ব্যবহৃত পানি ও উপকরণের মান এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহারের বৈধতা দ্রুত যাচাই করা হোক।

স্থানীয়রা আরও বলেন, বিষয়টি শুধু আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদন উপকরণ ও প্রস্তুতকৃত আইসক্রিমের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও খবর

Sponsered content