প্রতিনিধি ২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৩৮:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচ বয়কটের দাবিতে আয়ারল্যান্ডে চলমান প্রতিবাদের প্রভাব পড়েছে মাঠেও। বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালে ফিলিস্তিনের পতাকা আঁকা টেনিস বল মাঠে ছুড়ে দেন প্রতিবাদকারীরা।
বার্তাসংস্থা আল-জাজিরা জানায়, ম্যাচের ১৯ মিনিটে আয়ারল্যান্ড ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি টেনিস বল মাঠে এসে পড়ে। বলগুলোতে ফিলিস্তিনের পতাকা আঁকা ছিল। পরিস্থিতিতে ম্যাচের রেফারি অ্যালার্ড লিন্ডহুট দুই দলের খেলোয়াড়দের পানি পানের বিরতি দেন।
প্রায় চার মিনিট বন্ধ থাকার পর ম্যাচ আবার শুরু হয়। এর আগে ১২ মিনিটে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় আয়ারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ট্রয় প্যারট। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। বিরতির আগে পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোলও করেন প্যারট। তার শট ডান পোস্টে লেগে জালে যায়।
ম্যাচ শুরুর আগে এক ব্যক্তি ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন বলে আইরিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের বাইরেও বিক্ষোভ হয়। ‘স্টপ দ্য গেম’ উদ্যোগের কর্মীরা স্টেডিয়ামের কাছে ফিলিস্তিনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করেন। তারা আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড় গ্যাভিন বাজুনুর প্রতি সমর্থন জানান। বাজুনু শনিবার ইসরায়েলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের দুই ম্যাচেই না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
‘আয়ারল্যান্ড প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’ও স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের আয়োজন করে। একই দাবিতে দেশটির বিভিন্ন স্থানেও কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা আয়ারল্যান্ডের নেশন্স লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে বাকি ম্যাচটিও বয়কটের দাবি জানাচ্ছেন। রোববারের ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ হলেও দর্শকশূন্য অবস্থায় সার্বিয়ার বাকা টোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বয়কটের ব্যাপক দাবির পর গত জুনে ‘অপারেশনাল কারণ’ দেখিয়ে ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেয় আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই)। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এফএআইয়ের একটি প্রস্তাবে উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
‘স্টপ দ্য গেম’ উদ্যোগটি বুধবার আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও কোচ হেইমির হালগ্রিমসনের কাছে খোলা চিঠি দিয়ে রোববারের ম্যাচ না খেলার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে আইরিশ সরকার ও এফএআইয়ের কাছেও ম্যাচটি বাতিলের দাবি জানায় তারা।
এর আগে গত রোববার হাঙ্গেরির দেবরেসেনে ইসরায়েলের ‘হোম’ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ওই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলেন এবং প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়।
ম্যাচের আগের দিনও ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা নিয়ে আয়ারল্যান্ড দলের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা হয়। সেদিন সকালে বাজুনু কোচকে দুই ম্যাচ থেকেই নিজেকে প্রত্যাহার করার ইচ্ছার কথা জানান।
এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল জানান, খেলোয়াড়রা ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ খেলতে রাজি ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজুনুকে বাদ দিয়ে ভোটের ফল ছিল ১৪-৮।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য অবশ্য বাজুনু আবার দলে ফিরেছেন। ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মা থাকা ফিন আজাজও ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে দলে না থাকার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একাদশে ফেরেন।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি আয়ারল্যান্ডে ব্যাপক জনসমর্থনের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা নিয়ে জাতীয় দলটি নিজ দেশেই ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। তবে এফএআই বয়কটের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তাদের যুক্তি, এমন সিদ্ধান্ত নিলে উয়েফার কাছ থেকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে দলটি। ২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করার কথা রয়েছে আয়ারল্যান্ডের।





















