প্রতিনিধি ৪ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:৫১:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
শীতে উষ্ণতার জন্য চাদর যেন অপরিহার্য। শীতের এ অনুষঙ্গের জনপ্রিয়তা সব সময় ছিল এখনও আছে। তবে এটিকে নিত্যনতুনভাবে উপস্থাপন করছে আমাদের ফাশন হাউসগুলো। বিস্তারিত জানাচ্ছেন-
নিশাত তানিয়া
এমন কিছু পোশাক আছে, যেগুলো সবসময়ই নতুন, চাদরও সেরকমই। ফ্যাশনে চাদরের ব্যাবহার কখনও পুরনো হবে না। একটা সময় মনে হতো চাদর মনে হয় বয়স্কদের জন্য; কিন্তু এই ধারণা বদলেছে। এখনতো তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় এটি। আর সবচেয়ে বড় কথাÑ চাদর সব পোশাকের সঙ্গেই মানানসই।
এখন দেশি নকশা আর উপকরণে বানানো চাদরগুলো পাশ্চাত্যের পোশাকের সঙ্গে খুবই সুন্দর লাগে। মণিপুরী নকশা এখন শুধু শাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চাদরেও চলে এসেছে এ কাজ, নকশা-মোটিফ। ঠিক শাড়ির মতো একইভাবে চরকায় চাদরগুলো তৈরি হয়। বুননে ব্যবহার করা হয় উলের সুতা। লাল, নীল, হলুদ, অফ হোয়াইট ও সব রঙের অনেক শেডের মধ্যেই এগুলো হচ্ছে আর কনট্রাস্ট আরেকটা রঙ দিয়ে করা হচ্ছে মোটিফগুলো। এ ধরনের চাদরগুলো তৈরি করতেও সময় লাগে প্রায় এক সপ্তাহ। মেয়েরা ওয়েস্টার্ন বা শাড়ির সঙ্গে এক সাইডে করে নিলে বেশ আভিজাতের একটা লুক আনে। এগুলো দেশি হাউসগুলো তে পাওয়া যাবে, অনেক ক্ষেত্রে অর্ডার দিয়েও করানো হয়। দাম পরবে ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মতো।
আবার সিনথেটিক কাপড়ের ওপর চেকের বা অনন্য নকশা করা হয়েছে, যা টি-শার্টের সঙ্গে অনায়াসে পরতে পারেন। তবে শীতের দিনে শাড়ি আর চাদর একে অপরের পরিপূরক। সকালে কর্মক্ষেত্রে, বিকালে দাওয়াতে বা রাতে বাড়ি ফেরার সময় চাদর সঙ্গে থাকবেই। মোম-বাটিকের চাদরগুলোয় দেশি একটা মায়া আছে। অলিভ, পেস্ট, আকাশিসহ যে কোনো ম্যাট কালারের ওপর সাদা রঙের টাইডাই যে কোনো পোশাক আর জায়গায় মানিয়ে যাবে অনায়াসেই। টাইডাই-এর চাদরগুলো বেশ রিজেনেবল ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
জামদানি মোটিফে চাদরগুলো খুবই এলিট। জামদানি শাড়ির কদর যেমন সব সময়, এর ধারাবাহিকতায় চলে এসেছে চাদরও। শাড়ির সঙ্গে এ চাদরের কদর বলার অপেক্ষা রাখে না। মিষ্টি একেকটা রঙে সোনালি সুতার কাজ, আবার জামদানি প্রিন্ট, চাদরের নিচে টারসেল দিয়ে একেকটি একেক ধরনের দৃষ্টিনন্দন। এগুলো শাড়ি এবং পাঞ্জাবির সঙ্গে খুবই গর্জিয়াস লাগবে। আড়ংসহ কয়েকটি দেশি হাউসে এগুলো পেয়ে যাবেন। দাম পড়বে ২২০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। তবে কাজ অনুযায়ী দাম কম-বেশি হবে।
খাদি চাদরের কদর এসময় বেশ ভালোই ছিল। বিশেষ করে ছেলেরা যে কোনো অনুষ্ঠানে এটি পরে যেতে বেশ পছন্দ করে। খাদি চাদর সাধারণত অফ হোয়াইট বেশি দেখা যায়। একরঙের ওপর সামান্য বুটি কাজেই এটি অসামান্য। এগুলোর দাম ১৫০০ থেকে শুরু হয়। এবার ডেনিমের চাদরের চাহিদা বেশ দেখা গেলো। এটি তরুণীদের কাছে বিশেষ পছন্দের, কারণ এটিকে স্কার্ফের মতো করেও নেওয়া যায়। আর এ মেটেরিয়াল তো তরুণদের কাছে সব সময়ই জনপ্রিয়। চাদরে সুতার কাজগুলো আসলেই নজরকাড়া। কোনো কোনোটাতে সঙ্গে আছে কুশিকাঁটার লেসের বর্ডার। দামও ১২০০ থেকে ২০০০ হাজারের মধ্যে। এর পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে ক্যান্ভাস কাপড়ে কোলাজের কাজের চাদর। আবার চাদরে বাংলার বিখ্যাত সিনেমার নাম ও সাদা-কালোর যুগের নায়ক-নায়িকাদের ছবি দিয়ে করা হয়েছে ব্যতিক্রম। এ ছাড়াও সিল্কের চাদর, অ্যান্ডি চাদর, ধুপিয়ান, তোসরের চাদরগুলোও পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোতেও করা হয়েছে স্কিন প্রিন্ট, শিবুরি বাটিক, ভেজিটেবল টাইডাই। এবারের শীতে একটু পাতলা কাপড়ের চাদরের কদর বেশি। তবে হাড় হিম করা শীতের জন্য থাকছে উলেল কাপড়ের শালও। সুতা, চুমকি, অ্যামব্রয়ডারি, স্কিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, টাইডাইয়ে এগুলোর সৌন্দর্য দিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শালে বা চাদরে এখন এসেছে ভিন্নতা, তবে আদি থেকে দেখতে গেলে উত্তর ভারতীয় অঞ্চলের শাল পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত। আর কাশ্মীরি শালের খ্যাতি সবসময়ই। একরঙা, হালকা কারুকাজের কিংবা পুরো জমিনে অনবদ্য সূচিকর্ম করা শাল বেছে নিতে পারেন স্থান-কাল ভেদে। কাস্মীরি শালের মধ্যে পশমি শাল জনপ্রিয়তার শীর্ষে। নেপালেও এটি দারুণ তৈরি হয়।
শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, জিন্স, ফতুয়া, স্কার্ট- সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে যায় এগুলো। শুধু মেয়েদেরই নয় ছেলেদেরও পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়ার সঙ্গে খুবই মানানসই। আর এগুলোর রঙ, নকশা, কাটিং- সবকিছু মিলায়ে খুবই আকর্ষণীয়। কাস্মীরি শাল কাজ ও কোয়ালিটি অনুযায়ী দাম পড়ে ১৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা।
এখনতো চাদর জড়িয়ে চলাফেরায় আরও সুবিধা আনতে কাটিংয়ে দারুণ সব পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন- চাদরের মধ্যে হাতের আকার দিয়ে সহজে আটকে রাখা যায়।














