প্রচ্ছদ

কোলকোন্দ মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্য, হাজিরা খাতা চুরি ও বেতন আত্মসাতের অভিযোগ

  গঙ্গাচড়া রংপুর প্রতিনিধি: ৩০ এপ্রিল ২০২৫ , ৩:৫৬:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোলকোন্দ তাকিয়া শরিফ হাফিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, হাজিরা খাতা চুরি ও বেতন আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে চলছে লাগামহীন দুর্নীতি।

জানা যায়, মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষক মহামুদুল বাকিবিল্লাহ তার পুত্রবধূ মোছাঃ জান্নাতুল মাওয়াকে গোপনে অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। শিক্ষক মহামুদুল নিজেই খাতা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জাল স্বাক্ষর করে ফেরত দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির আরেক অফিস সহকারী মো. সামুয়েল। তিনি ২০ এপ্রিল অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগে জানান, ১৭ এপ্রিল মহামুদুল খাতা নিয়ে যান এবং ২০ এপ্রিল ফেরত দেন। এ সময়ের মধ্যে জান্নাতুল মাওয়ার পক্ষ থেকে তিন মাসের জাল স্বাক্ষর বসানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের কমিটির আমলে প্রায় ৮৪ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগে তৎকালীন সংসদ সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গার প্রতিনিধি মো. মমিনুর রহমান ও বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আমিনুর রহমান জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

২০২৩ সালে কয়েকজন অভিভাবক সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে বলা হয়, এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ৮ জন শিক্ষককে নিয়োগ দিতে মাথাপিছু ৮ লাখ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৪ জনকে ৪ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছে, গেট বাঁশ দিয়ে আটকানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নেই। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, “দুর্নীতি আর অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এই মাদ্রাসা।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মহামুদুল বাকিবিল্লাহ প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে খাতা বাড়িতে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। জান্নাতুল মাওয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়নি।

অধ্যক্ষ মো. আমিনুর রহমান বলেন, জান্নাতুল মাওয়া নিয়োগ পেয়েছেন বটে, তবে নিয়মিত আসেন না।উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আরিফ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ যদি নিয়মিত কর্মস্থলে না আসেন, তবে তার বেতন গ্রহণ অবৈধ।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা দৈনিক বাংলাকে বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এলাকাবাসী এই দুর্নীতির তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আব্দুল আলীম প্রামানিক /এমআই

আরও খবর

Sponsered content