রাজনীতি

খুলনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা: নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি নাগরিক সমাজের

  প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৭:৪৪:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

গোপন বৈঠক, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে খুলনায় রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নগরী থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় মামলা ও কিছু গ্রেপ্তারের পর প্রশ্ন উঠেছে—প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ না থাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা কি তবে গোপন নেটওয়ার্ক ও পেশাজীবীদের আড়ালে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা। অন্যদিকে এসব মামলায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের আসামি করা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও হয়রানির অভিযোগও তৈরি হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

সম্প্রতি খুলনার ডুমুরিয়ায় গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিকসহ একাধিক পেশাজীবীকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর সোনাডাঙ্গায় একটি ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশ ২ জনকে আটক করে এবং পরবর্তীতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করেও নিষিদ্ধ সংগঠনটির তৎপরতার অভিযোগে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছিল।

পেশাজীবীদের আড়াল ও হয়রানির আশঙ্কা

রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও কেউ যদি গোপনে সংগঠিত হয়ে সহিংসতার পরিকল্পনা করে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে সাংবাদিক বা নিরপেক্ষ কোনো পেশাজীবী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সচেতন মহল।

পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, অপরাধের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও আলামত পাওয়া গেলেই কেবল আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে যেমন ছাড় দেওয়া হবে না, তেমনি নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

সাইবার নজরদারি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও বা অডিও ক্লিপ তৈরি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চক্রান্ত ঠেকাতেও জোর সাইবার নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক সমাজের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি অভিযোগ করেন, “থানাগুলোতে ঘন ঘন ওসি ও এসআই রদবদলের কারণে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এর সুযোগ নিয়ে পলাতক নেতাকর্মীরা গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন।” পুলিশের একটি অংশের বিরুদ্ধে পরোক্ষ সহযোগিতারও অভিযোগ তোলেন তিনি।

আসল পরীক্ষা নিরপেক্ষ তদন্তে:

খুলনার সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পেছনে সত্যিই কি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার তৎপরতা রয়েছে, নাকি রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানো হচ্ছে—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের পরই। ফলে নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা দমনের পাশাপাশি প্রতিটি আসামির সুনির্দিষ্ট অপরাধ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই এখন খুলনা জেলা পুলিশের জন্য পুলিশের জন্য বড় পরীক্ষা।

আরও খবর

Sponsered content