মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: ৩ মার্চ ২০২৬ , ২:২০:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে রাতভর আটকে রেখে সালিস ও মারধরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ও অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (১ মার্চ) সকালে মান্দা উপজেলা-র তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেপাড়া গ্রামে। সেখানে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে হোসেন আলী (৩৫)-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে এক ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে নিয়ে গিয়ে রাতভর সালিস বৈঠক করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আপোষের চেষ্টা করা হয় এবং জরিমানার দাবিও তোলা হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান কামরুল দাবি করেন, সালিসের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে মান্দা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে. এম. মাসুদ রানা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ভুক্তভোগী পরিবারের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, ধর্ষণচেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধে স্থানীয় সালিসের বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় আপোষ বা জরিমানা আদায় বেআইনি; বরং অবৈধভাবে আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগেও জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















