কৃষি বার্তা

বগুড়ায় কিনোয়া চাষে সম্ভাবনার দিগন্ত : সুপারফুডে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

  মোঃ রাশেদ মিয়া , স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:৩১:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের সকালের নরম রোদ আর হালকা বাতাসে দুলছে থোকা থোকা ফুলে ভরা গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় পরিচিত বথুয়া শাক। তবে কাছে গেলে ভিন্ন চিত্র—এগুলো কোনো শাক নয়, পুষ্টিগুণে ভরপুর ‘সুপারফুড’ কিনোয়া। বিদেশি এই দানা জাতীয় ফসল এবার উত্তরের শস্যভাণ্ডারখ্যাত বগুড়া জেলায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

মূলত দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা অঞ্চলের প্রাচীন খাদ্য কিনোয়া কয়েক হাজার বছর ধরে সেখানকার মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। চাল বা গমের তুলনায় এতে রয়েছে বেশি প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ফাইবার। গ্লুটেনমুক্ত হওয়ায় ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে কিনোয়া চাষ শুরু করেছেন সাবেক ব্যাংকার আব্দুল হান্নান। ইউটিউব দেখে এই সুপারফুড চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। পরে পঞ্চগড় জেলার এক সফল কিনোয়া চাষির কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে বাড়ির পাশের প্রায় দশ শতাংশ জমিতে এই ফসলের চাষ করেন।

কিনোয়া চাষি আব্দুল হান্নান জানান, “অন্যান্য ফসলের তুলনায় কিনোয়াতে সেচ ও সার অনেক কম লাগে। ফলনও ভালো হয়েছে। যদি ন্যায্য দাম পাই, তাহলে আগামী মৌসুমে বড় পরিসরে চাষ করব।”

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, শীতকালীন এই ফসল সাধারণত নভেম্বর মাসে রোপণ করা হয় এবং মার্চের দিকে কাটার উপযোগী হয়। সারিয়াকান্দি অঞ্চলের বেলে-দোআঁশ মাটি কিনোয়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী বলে তারা মনে করছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিনোয়া চাষে বিঘাপ্রতি খরচ তুলনামূলক কম হলেও বাজারমূল্য অন্যান্য ফসলের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কিনোয়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “কিনোয়া চাষের বিস্তার ঘটলে একদিকে মানুষের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে, অন্যদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। সুপারশপ ও বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা গেলে এটি শস্য বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয় কৃষকদের ধারণা, কিনোয়া চাষে টেকসই সাফল্য আনতে সরকারিভাবে উন্নত বীজ সরবরাহ এবং উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণের জন্য একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা জরুরি। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সরিষা, ভুট্টা ও ধানের পাশাপাশি কিনোয়া চরাঞ্চলের কৃষিতে একটি নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

আরও খবর

Sponsered content