প্রতিনিধি ২৩ মার্চ ২০২৫ , ১১:০৭:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বদরগঞ্জের সাবরেজিস্ট্রার মোঃ রেজাউল ইসলাম বিপ্লবের বিরুদ্ধে প্রতি দলিল সম্পাদনে ১ হাজার ৭০০ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে তিনি নানাভাবে হয়রানি করেন।
সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি সরাসরি দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেন না। তাঁর নামে দলিল লেখকেরা দলিল গ্রহীতার কাছ থেকে ওই টাকা নেন। আবার সাবরেজিস্ট্রার দলিল লেখকদের কাছ থেকে সেই টাকা তোলার জন্য নকল নবিশ আনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আনোয়ার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দলিল লেখকদের কাছে ঘুরে ঘুরে টাকা তোলেন।
নাম প্রকাশ না করে এক দলিল লেখক জানান, সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে তিন দিন দলিল সম্পাদন করেন। এই তিন দিনে দলিল করা হয় ৩০০ থেকে ৩৫০টি। এতে সপ্তাহে তিন লাখেরও বেশি টাকা ঘুষ পান সাবরেজিস্ট্রার। তিনি নকল নবিশ আনোয়ারের মাধ্যমে ওই টাকা নেন।
দলিল লেখক সমিতির সাবেক এক নেতা বলেন, ‘কাগজপত্র সব ঠিক থাকার পরও দলিল লেখককে অন্যের মাধ্যমে টাকা দিতে হয় সাবরেজিস্ট্রারকে। টাকা না দিলে নানাভাবে হয়রানি করেন তিনি। দলিল সম্পাদন শেষে একজন মোহবার লিখে রাখেন দলিল লেখকদের কে কয়টা দলিল করেছেন। পরে সেই তালিকা হাতে নিয়ে কালেকশনে নামেন নকল নবিশ আনোয়ার। তিনি কখনো বালাম বই লিখেন না।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, নকল নবিশ আনোয়ার একটি তালিকা হাতে নিয়ে দলিল লেখকদের কাছে ঘুরে ঘুরে টাকা তুলছেন। এ প্রতিবেদক এমন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে গেলে তিনি সটকে পড়েন। পরে প্রতিবেদকের সাথে কার্যালয়ের ভিতর চা খেতে খেতে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো কথা বলব না। যদি কিছু জানার থাকে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে পারেন। আমি ছাত্রলীগ করতাম জন্য আমার শত্রু বেশি। রেজাউল স্যারও ছাত্রলীগ করতেন তাই ওনার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে’।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় , আনোয়ার বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ।
সাব রেজিস্টার রেজাউল ইসলাম বিপ্লব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ১১৪ নাম্বার রুমে বসবাস করতেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।














