সম্পাদকীয়

ব্যানারের ভিড়ে এক ব্যতিক্রমী নীরবতা

  সোহেল রানা, ঢাকা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:৪৫:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যানার–ফেস্টুন এখন আর কেবল প্রচারের মাধ্যম নয়, অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে আত্মপ্রচারের হাতিয়ার। চারপাশে চোখ রাখলেই দেখা যায়—ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখা থাকে প্রচারে অমুক, আয়োজনে তমুক, কিংবা এলাকার জনগণ ও এলাকাবাসী। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ব্যানার লাগানোর মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও যত্ন করে পোস্ট করে নিজের সক্রিয়তা ও আনুগত্যের প্রমাণ দেওয়ার প্রবণতাও চোখে পড়ে।

এই পরিচিত দৃশ্যপটের মাঝেই ঢাকার মহাখালী এলাকার টিএন্ডটি স্কুল রোডে দেখা গেছে একটি ব্যতিক্রমী চিত্র। সেখানে ঝুলানো কিছু ব্যানারে তারেক রহমান–এর নাম থাকলেও প্রচারকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো পরিচয় উল্লেখ নেই। এই অনুপস্থিতিই নজর কাড়ে, আর সেখানেই তৈরি হয় ব্যতিক্রমের অনুভূতি।

নিজেকে জাহির করার প্রতিযোগিতার ভিড়ে এসব ব্যানার আলাদা করে চোখে পড়ার কারণ একটাই—এখানে কারো নাম নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, কে বা কারা এসব ব্যানার টাঙিয়েছেন? এলাকাবাসীর অনেকেই নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। নিশ্চিত তথ্যের অভাবে এটাও ধরে নেওয়া যেতে পারে যে দলীয় উদ্যোগে ভাড়াটে লোকের মাধ্যমে এসব ব্যানার লাগানো হয়েছে। আবার এটাও সম্ভব, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজ উদ্যোগে, পরিচয় গোপন রেখেই এই কাজটি করেছেন।

যদি দ্বিতীয়টিই সত্য হয়ে থাকে, তবে সেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কারণ এখানে ব্যক্তিগত পরিচয় বা কৃতিত্ব জাহির করাই মুখ্য নয়; বরং দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিজের নাম আড়ালে রেখে রাজনৈতিক বিশ্বাসকে সামনে আনা—এটিকে দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক নীরব নিদর্শন বলাই যায়।

এই লেখা কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রচারের উদ্দেশ্যে নয়। লেখক কোনো পক্ষাবলম্বনও করছেন না। এখানে কেবল একটি ভিন্নতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনীতিতে পছন্দ–অপছন্দ থাকবেই, সেটাই স্বাভাবিক। তবে অন্ধ সমর্থন নয়—ন্যায় ও অন্যায়ের প্রশ্নে কথা বলাই সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। দল পছন্দের হলেও ভুলকে ভুল বলা, আর ভালোকে ভালো বলা—এই বোধটুকুই এখানে তুলে ধরার প্রয়াস।

আরও খবর

Sponsered content