অপরাধ

মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়েও কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের ছক, র‌্যাবের জালে ফেরারি জামাল

  মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফরিদপুর ৩১ আগস্ট ২০২৬ , ৬:৫০:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

 

মাথায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা। সেই সাজা এড়াতে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে কৌশলে আবার বাংলাদেশে ফেরেন। দেশে ফিরে গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও অপরাধের পথ ছাড়েননি। বরং মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা মাথায় নিয়েই নতুন করে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’ বা ভাড়াটে খুনের পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শেষ পর্যন্ত নড়াইলে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামাল পত্তনদার (৪৫)।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মণ্ডল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাল পত্তনদারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর র‌্যাব-১০ ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদার এসব তথ্য জানান।

 

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মণ্ডলকে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত জামাল পত্তনদারকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।

রায়ের খবর পাওয়ার পর মৃত্যুদণ্ড এড়াতে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান জামাল।

 

র‌্যাব জানায়, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ভারতের মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিআইইউ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা এলাকা থেকে জামালকে গ্রেপ্তার করে। সেখানে কয়েক মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর প্রায় দুই মাস আগে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পুশব্যাকের মাধ্যমে কৌশলে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

দেশে ফিরে আত্মগোপনে থাকলেও ফের অপরাধে জড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব। সংস্থাটির ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় থাকা অবস্থায়ও জামাল নতুন করে ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’-এর পরিকল্পনা করছিলেন।

 

র‌্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিপন হত্যা মামলা ছাড়াও জামাল পত্তনদারের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা এবং চাঁদাবাজির একটি মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর জামাল পত্তনদারকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আরও খবর

Sponsered content