সম্পাদকীয়

লস অ্যাঞ্জেলেসে রহস্যময় ‘ডুমসডে প্লেন’: জল্পনার অবসান, কী এই ই–৪বি নাইটওয়াচ?

  এটিএম রাকিবুল বাসার ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:০৬:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

আলোচনায় চলে আসা সেই ডুমসডে প্লেন/ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি দেখা গেছে এক রহস্যময় সামরিক বিমান। আকাশে উড়ন্ত পেন্টাগনের মতো গড়নের এই বিমানটি পরিচিত ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে। বিরল এই উড্ডয়ন চোখে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা ও কৌতূহল। বিশ্বজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আলোচনাও দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের অফাট এয়ার ফোর্স বেস থেকে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প স্প্রিংসে যায়, যা ওয়াশিংটন ডিসির খুব কাছেই অবস্থিত। সেখান থেকে এটি লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। সাধারণত এ ধরনের বিমান জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায়। ফলে দেশের অভ্যন্তরে এমন উড্ডয়ন স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে।

এই বিমানটি মূলত জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পারমাণবিক হামলার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও সরকার পরিচালনা সচল রাখার সক্ষমতা রয়েছে এতে। এ কারণেই একে ‘ডুমসডে প্লেন’ বলা হয়। এমন একটি বিমানের হঠাৎ উড্ডয়ন ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ওই বিমানে ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। তিনি ‘আর্সেনাল অব ফ্রিডম’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেস সফরে যান। নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা এবং একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে নাগরিকদের উৎসাহিত করা।

তবে কেন সাধারণ সরকারি বিমানের পরিবর্তে এই বিশেষ সামরিক বিমান ব্যবহার করা হলো, সে বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অতীতেও এ ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

‘ডুমসডে প্লেন’-এর আনুষ্ঠানিক নাম বোয়িং ই–৪বি নাইটওয়াচ। এটি একটি ন্যাশনাল এয়ারবর্ন অপারেশনস সেন্টার (NAOC)—অর্থাৎ আকাশে ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার। জরুরি সময়ে প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষা সচিব ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকার পরিচালনা সচল রাখাই এর মূল কাজ।

এই বিমানটি পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭–২০০ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে রয়েছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং এমন সক্ষমতা—যাতে মাটিতে সব যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হলেও এটি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র চারটি বিমান রয়েছে। ফলে জনসমক্ষে এদের দেখা পাওয়া অত্যন্ত বিরল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ই–৪বি একটি চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট দীর্ঘপাল্লার বিমান, যা আকাশে জ্বালানি নিতে সক্ষম। বিমানের ভেতরে ছয়টি আলাদা অংশ রয়েছে—কমান্ড এলাকা, কনফারেন্স কক্ষ, ব্রিফিং রুম, অপারেশন টিমের কাজের স্থান, যোগাযোগ কেন্দ্র এবং বিশ্রাম কক্ষ। সর্বোচ্চ ১১১ জন এই বিমানে অবস্থান করতে পারেন। এর মধ্যে যৌথ অপারেশন টিম, বিমান বাহিনীর ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত।

জ্বালানি ছাড়া এই বিমান টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে। আকাশে জ্বালানি নিলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো সম্ভব। সব মিলিয়ে, ই–৪বি নাইটওয়াচ কার্যত ‘আকাশের পেন্টাগন’ হিসেবেই কাজ করে।

আরও খবর

Sponsered content