মহসিন মোল্যা, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি— ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:৩৬:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বারোমাসী সিডলেস চায়না-৩ জাতের লেবু চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কামাল হোসেন। পেশায় একজন পল্লী পশু চিকিৎসক হলেও ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষি কাজে হাত দেন তিনি। বর্তমানে তিনি ৫৫ শতক জমিতে বারোমাসী সিডলেস চায়না-৩ জাতের লেবুর পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বারোমাসী ভিয়েতনামী মালটা, বেগুন, লাউ ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করে সারা বছরই নিয়মিত আয় করছেন।
জানা গেছে, উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাড়ির পাশে ৫৫ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল সিডলেস চায়না-৩ জাতের ৩৫০টি লেবু ও ৫০টি বারোমাসী ভিয়েতনামী মালটা গাছের চারা রোপণ করেন। লেবুর চারা, বাগান বেড়া দিয়ে ঘেরা এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ তার মোট খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। রোপণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং সাত মাস পর থেকেই বাণিজ্যিকভাবে লেবু বিক্রি শুরু হয়।
বর্তমানে তার বাগানের গাছে থোকায় থোকায় লেবু ধরেছে। একদিকে লেবু সংগ্রহ করা হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে প্রচুর ফুলও আসছে। তিনি জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব গাছ থেকে কলম বিক্রিও শুরু করা যাবে। বাজারে লেবুর যথেষ্ট চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে চাষটি লাভজনক হচ্ছে। এ ছাড়া এই জাতের লেবু চাষে তেমন শ্রম লাগে না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম, ফলে সহজেই যে কেউ এই লেবু চাষ করতে পারে।
কৃষি উদ্যোক্তা কামাল হোসেন বলেন, “আমার বাগান থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতি পিস লেবু ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে শুরু করে ৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাইকাররা এসে লেবু কিনে নিচ্ছে। এই লেবু বারোমাস ফলন দেয়, কোনো বিচি নেই, চামড়া পাতলা এবং রসের পরিমাণ অনেক বেশি। এসব কারণেই এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।”
তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই জাতের লেবুর চারা সংগ্রহের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করলে তিনি নিজ উদ্যোগে চারা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করবেন। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার মুঠোফোন নম্বর ০১৭১২৪৫০৩৩৫–এ যোগাযোগ করে চারা নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ন কবির বলেন, “সিডলেস লেবুতে প্রচুর রস ও সুগন্ধ রয়েছে। রমজান মাসে লেবুর চাহিদা বেশি থাকায় আশা করছি আসন্ন রমজানে ওই কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন। কৃষি বিভাগ থেকে প্রযুক্তিগত দিকসহ তাকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলের জন্য এটি একটি আদর্শ লেবু বাগান।”
এদিকে কামাল হোসেনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার শিক্ষিত ও অশিক্ষিত অনেক বেকার যুবক কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগও তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।














