সারাদেশ

সিলেটে সাংবাদিক লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদ ‘ডাকাতি’ মামলায় আটক: পরিবারের অভিযোগ পরিকল্পিত

  সিলেট ব্যুরো অফিস ৩ মার্চ ২০২৬ , ১১:৪৭:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়িতে লিফট নেওয়ার পর সংবাদকর্মী লিটন মিয়া ও চালক জুনায়েদ আহমদকে স্পর্শকাতর মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাদের পরিবার। মঙ্গলবার (৩ মে) দুপুর ২টায় সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আটক লিটনের বড় ভাই মরম আলী এসব অভিযোগ করেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই কামরুল ভোলাগঞ্জ বাজার থেকে নিজস্ব গাড়িতে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে লিটনের সঙ্গে পরিচয় হওয়ায় এবং জরুরি কাজ থাকায় তিনি লিটনকে গাড়িতে তুলে নেন। চালক জুনায়েদ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় এসআই কামরুল গাড়ি থেকে নেমে যান এবং গাড়ি সিলেটের দিকে চালক ও লিটনের সঙ্গে এগিয়ে যায়।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর সিলেট নগরের এয়ারপোর্ট রোডস্থ এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড এলাকার চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে গাড়ির পেছনের সিটে একটি ওয়াকিটকি এবং পেছনের ঢালায় একটি চাকু পাওয়া যায়। এরপর লিটন ও জুনায়েদকে আটক করা হয়। পরিবারের দাবি, ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিক এসআই কামরুল, যা তিনি ঘটনাস্থলে স্বীকারও করেছেন। তার স্বীকারোক্তির অডিও ও ভিডিও পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে।

পরিবারের অভিযোগ, এরপরও লিটন মিয়া ও জুনায়েদকে ‘ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটক’ দেখিয়ে মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মরম আলী দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় তাদের আসামী করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে লিটন ও জুনায়েদের মুক্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

লিটন মিয়া পেশায় সাংবাদিক ও গণঅধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। তিনি তিন সন্তানের জনক এবং পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত। পরিবার মনে করছে, সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লিটন মিয়া ও জুনায়েদ কারাগারে রয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content