
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আহত সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। গত ৮ জুন তিনি “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
পরদিন মঙ্গলবার সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবি’র সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেলে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাওয়ার পথে কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন সহযোগীসহ তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রধান শিক্ষক সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের সামনে নিয়ে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে ধরে রাখেন এবং প্রধান শিক্ষক তাকে কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। অপর সাংবাদিক লিওন ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে সাংবাদিক সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাতেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক সাহেব আলী বলেন, “বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, “প্রধান শিক্ষককে নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে আসার ঘটনায় ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগটিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।”
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।