বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর জামিননামা গ্রহণ করেছেন আদালত। ফলে অন্য কোনো মামলায় আটক না থাকলে তিনি আজ সোমবারই কারামুক্ত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আজ সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির এক লাখ টাকা মুচলেকা এবং আদালতে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিননামা গ্রহণ করেন।
কলিমউল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন জানান, গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন। এরপর সোমবার জামিননামা দাখিলের অনুমতি চাওয়া হলে আদালত এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তা অনুমোদন করেন। পরে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে। অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তিনি আজই কারামুক্ত হতে পারেন।
এদিন মামলার ধার্য তারিখ থাকায় কলিমউল্লাহকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিনই তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
এর আগে, গত বছরের ১৮ জুন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমউল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু এবং এম এম হাবিবুর রহমান।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন করেন। এছাড়া মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই ৩০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চুক্তি সম্পাদন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঠিকাদারের রানিং বিল থেকে কেটে রাখা নিরাপত্তা জামানত এফডিআর হিসেবে ব্যাংকে সংরক্ষণের পরিবর্তে ওই এফডিআরের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দিয়ে গ্যারান্টার হওয়ার মাধ্যমে সরকারের চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের বিধান না থাকা সত্ত্বেও অগ্রিম বিল দেওয়া, সেই বিল সমন্বয়ের আগেই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা এবং প্রথম পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুসরণ না করে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক দর বা ফ্রন্ট লোডিং থাকা সত্ত্বেও পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন না করার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।