
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পরিচিতি নং-২৮১৮) মো. হাসানুজ্জামানকে প্রশাসন ও অর্থ উইং থেকে বদলি করে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ মে) উপসচিব আক্তারুন নাহারের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ থাকায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ বদলি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, অফিসে অসদাচরণ, কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনিয়ম এবং বদলিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে উঠে আসছিল। কয়েকজন কৃষিবিদ অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রায় তিন শতাধিক কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন এবং এসব বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া একাধিক নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তিনি বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যোগাযোগ করে তাদের বিরক্ত করতেন। কয়েকজন কৃষিবিদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া তিনি বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন না এবং বিভিন্ন পদায়নে প্রভাব বিস্তার করা হতো।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্প ও টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে তার ভাই ওসি কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি আলোচিত মামলার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জানা গেছে, ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম সাইফ এ ঘটনায় মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাইফুল ইসলাম সাইফ বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং হাসানুজ্জামান ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে হাসানুজ্জামানের বদলির খবরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. হাসানুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।