ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই জলপথ দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল।
ইরানের স্টুডেন্ট সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নৌবাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রণালি বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, এই অবরোধ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নোঙর করা কোনো জাহাজ যেন চলাচল না করে এবং হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া শত্রুকে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিন ধরে অবরোধের ঘোষণা দিচ্ছে, এটি একটি অদক্ষ ও অজ্ঞ সিদ্ধান্ত।’
এর আগে ইরান সাময়িকভাবে প্রণালি খুলে দিয়েছিল এবং সেখানে দিয়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যায়। তবে কিছু সময় পরই নীতির পরিবর্তন আসে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা জানায়, শনিবার ইরানি গানবোট দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী রেডিও বার্তায় জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজকে চলতে দেওয়া হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান এই জলপথ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে পারবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নৌ অবরোধ সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকবে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই বলেন, নৌবাহিনী শত্রুদের “নতুন ও তীব্র পরাজয়” দিতে প্রস্তুত।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।