
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হামাসের হাতে থাকা শেষ জীবিত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পেয়েছেন। রেড ক্রসের মাধ্যমে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ইসরায়েল মুক্তি দিয়েছে, যারা পশ্চিম তীর ও গাজায় পৌঁছেছেন। তবে তাদের সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম। স্বাক্ষর অনুষ্ঠান মিসরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে করা হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, প্রথম ধাপে সাত জন এবং পরের ধাপে ১৩ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গালি বারমান, জিভ বারমান, এইটান আব্রাহাম মর, এলকানা বোহবোট, জন রোম ব্রাস্লাভস্কি প্রমুখ। এছাড়া হামাসের হাতে থাকা মৃত জিম্মিদের দেহও রেড ক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে, ১,৭১৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় তাদেরকে পশ্চিম তীর ও গাজায় নেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা হাসিমুখে বিজয়ের চিহ্ন দেখাচ্ছেন এবং পথসভায় হাজার হাজার মানুষ তাদের স্বাগত জানাচ্ছেন।
ইসরায়েলের সংসদে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেকসই শান্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তবে বক্তৃতা চলাকালে “ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দাও” ব্যানার দেখানোর কারণে দুইজন এমপি সংসদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির পর গাজা শহরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক। হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী ও ইসরায়েলপন্থী দুগমুশ পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষ শুরু হয় গাজার পশ্চিমে আল-শিফা হাসপাতালের আশপাশে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, গাজা-মিসর সীমান্তে রাফা ক্রসিং মনিটরিং করবে এবং অস্ত্রবিরতি টেকসই করার জন্য তত্ত্বাবধান করবে। শান্তি স্থাপন এবং দুই পক্ষের মানবিক সহমর্মিতার গুরুত্ব আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চকিত হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।