
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে কোরবানির হাট ও ব্যস্ত বাজারগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার একটি চক্র সিলেটে এসে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়ভাবে এ চক্রের সঙ্গে মহানগর যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাকি আক্তার ওরফে লাকি আহমেদ, যুব মহিলা লীগের নেত্রী খাদিজা বেগম এবং বাপ্পি নামের এক যুবকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, তারা নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম বিপণিবিতান ও কোরবানির হাটে বিভিন্ন কৌশলে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া জাল নোটের পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি স্বপ্না থেরাপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এর আগে র্যাব জাল নোট চক্রের একটি নেটওয়ার্কের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, নগরীতে আরও কয়েকটি জাল নোট চক্র সক্রিয় রয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ৫০০ টাকার একটি জাল নোট বাজারে চালাতে পারলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ২০০ টাকা দেওয়া হতো। ঢাকাকেন্দ্রিক একটি নেটওয়ার্ক থেকে জাল নোট ছাপানো ও পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হতো বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি র্যাব-৯ এর অভিযানে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা থেকে এক সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর লালবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে দুজন শেরপুরের, একজন বরিশালের এবং একজন ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, প্রতারক চক্র সাধারণত ব্যস্ত দোকানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তারা অল্প পরিমাণ পণ্য কিনে বড় অঙ্কের নোট দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে। এছাড়া বড় নোট ভাঙানোর নামেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তাদের দাবি, জাল নোট ব্যবহার করে সংগৃহীত অর্থ বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মূল হোতাদের কাছে পাঠানো হতো।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।