
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের ভারী মেরামতের একমাত্র কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) থেকে মেরামত শেষে পাঁচটি রেল ইঞ্জিন ঈদ উপলক্ষে রেলবহরে যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেও এসব ইঞ্জিন মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, মেরামত শেষে পাঁচটি লোকোমোটিভ ইতোমধ্যে রেলবহরে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি রেল ইঞ্জিনে প্রায় ৩৪ হাজারের বেশি যন্ত্রাংশ থাকে। এসব ইঞ্জিনের মেরামতের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে হয়। একটি রেল ইঞ্জিনের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর প্রতি ছয় বছর পরপর জেনারেল ওভারহোলিংয়ের (জিওএইচ) জন্য পার্বতীপুরের কেলোকায় পাঠানো হয়। সেখানে ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং অকেজো অংশ মেরামতের মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো পুনরায় সচল করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট রেল ইঞ্জিন রয়েছে ২৯৪টি। এর মধ্যে ব্রডগেজ ১০৮টি এবং মিটারগেজ ১৮৬টি। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ব্রডগেজ ৬০টি এবং মিটারগেজ ৮০টি। বর্তমানে রেলবহরে ৬৭ বছর পুরনো আটটি মিটারগেজ ইঞ্জিনও চালু রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে ১৯৭৮ সালের একটি ৪৮ বছর পুরনো ইঞ্জিন ভারী মেরামত শেষে রেলবহরে যুক্ত হয়েছে।
পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী (সিইএক্স) প্রকৌশলী শেখ হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সীমিত বাজেট ও স্বল্প জনবল নিয়েও কারখানার প্রকৌশলী ও কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে চলতি সময়ে ১৬টি রেল ইঞ্জিনের আউটটার্ন দিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় বাজেট ও দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে কারখানার বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা সামনে রেখে পাঁচটি লোকোমোটিভ মেরামতের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো গত ১৫ মার্চ মেরামত শেষে রেলবহরে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতি অর্থবছরে ৩০টি ইঞ্জিন ভারী মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বাস্তবে ১৮ থেকে ২০টি ইঞ্জিন আউটটার্ন করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১১ একর জমির ওপর পার্বতীপুরে ডিজেলচালিত রেল ইঞ্জিনের জেনারেল ওভারহোলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা স্থাপন করা হয়।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেই ভারী মেরামত শেষে পাঁচটি ইঞ্জিন চালু হওয়ায় রেলওয়ের বহরে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।