
নাটোরের লালপুর উপজেলায় প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সেতুর নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার চকনাজিরপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মাণাধীন সেতুটির কয়েকটি স্থানে দৃশ্যমান ফাটল দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও যথাযথ তদারকির অভাব থাকতে পারে। তাদের ভাষ্য, সেতুটি চালু হওয়ার আগেই যদি ফাটল দেখা দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেতুর নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হিমেল এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী শাজাহান আলী। তিনি বলেন, “সেতুর পাশে মাটি ভরাটের সময় ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনের আঘাতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাসুদ রানা বলেন, “মাটি ভরাটের সময় যন্ত্রের আঘাতে ফাটল তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেতুর নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বরকত উল্লাহ বলেন, “সেতু নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হোক। একই সঙ্গে জনস্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।