দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চলমান প্রচেষ্টায় প্রায় এক বছর পর ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আগামী ২২-২৩ জুন ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (এনএসএ) বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। আজ শুক্রবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে ওয়াং ই এই সফরে যাচ্ছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সমপর্যায়ের ভূমিকা দিয়েছে।
গত মাসে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেননি ওয়াং ই। সে সময় বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের সঙ্গে সময়সূচির সংঘাত থাকায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে ভারত সফর করেন ওয়াং, তখন তিনি অজিত দোভাল ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস এনএসএ বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু এবং প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবে বেইজিং।
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লিন জিয়ান বলেন, পরিবর্তনশীল ও অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ব্রিকস এখন ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অগ্রভাগে রয়েছে। বিশ্ব শান্তি, বহুপাক্ষিকতা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জোটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদারে ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চায় চীন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকের ফাঁকে অজিত দোভাল এবং ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওয়াং ইর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারত-চীন বিশেষ প্রতিনিধি (স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ) পর্যায়ের পৃথক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এ ধরনের পরবর্তী বৈঠক চীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার অবসানে ভারত ও চীন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর থেকেই দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিরসনেও আলোচনা জোরদার করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অজিত দোভাল চীন সফর করেন এবং পরে ২০২৫ সালের আগস্টে ওয়াং ই ভারত সফরে আসেন। এসব বৈঠকে সীমান্তের বিতর্কিত অঞ্চল ও আস্থা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে দুই দেশ সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করেছে। এছাড়া কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু হয়েছে এবং ভারত চীনা নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করেছে। অন্যদিকে চীনও ভারী যন্ত্রপাতি, বিরল খনিজ চুম্বক (রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট) এবং সার রপ্তানির ওপর কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াং ইর আসন্ন ভারত সফর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।