বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের যোগ্যতানুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। এখন সময় এসেছে সাই মিলে দেশ গড়ার। এই= দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, তেমনি সমতলের মানুষও আছে। আমাদের যেকোনো মূল্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর ৩০০ ফিটে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন। বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। দেশের মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে। সবাই মিলে এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে ও ঘরে ফিরে আসতে পারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন , একাত্তরে দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। কাজ করতে হলে দেশের প্রতিটা মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন ইনশাআল্লাহ আমি তা বাস্তবায়ন করতে পারব, সফল হব। নবী করীম (সা.)-এর ন্যায়ের আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার প্রচেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, যে মানুষগুলোর জন্য আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই মানুষগুলোকে ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারি না। আমরা যে দলের, যে ধর্মের যে জাতের মানুষই হই না কেন, সকলে মিলে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন নারী, পুরুষ, শিশু সকলেই নিরাপদ থাকতে পারে।
মার্কিন মানবাধিকার সংগঠকমার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো? মার্টিন লুথার কিং-এর একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে— ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।
তিনি বলেন, যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়– প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।
এর আগে, দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসে নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাদের স্বাগত জানান।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে একমুঠো মাটি নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
এরপর নির্ধারিত লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে করে পূর্বাঞ্চলের তিনশ’ ফিটে আয়োজিত গণসংবর্ধনাস্থলে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। লাখো মানুষ তাকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। দলীয় কর্মী আর উৎসুক জনতার স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ৩০০ ফিট বা জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে এবং আশপাশের এলাকা। মঞ্চে উঠেই হাত নেড়ে ভালোবাস ও শুভেচ্ছার জবাব দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।