বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করে আলো ছড়িয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই ম্যাচেই তিনি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ এক কীর্তির অংশ হয়ে উঠেছেন।
গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচেই গোল করে তিনি কিংবদন্তি রিভালদো ও রোনালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন ভিনি। ২০০২ সালের পরে ব্রাজিলের কোনো ফুটবলার এই কৃতিত্ব অর্জন কর্মতে পারেননি।
এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোল করেন ভিনিসিয়ুস। এরপর হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও জালের দেখা পান তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে টানা তিন ম্যাচে গোল করার বিরল অর্জন সম্পন্ন করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটে গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দূরের পোস্টে ভেসে আসা বল দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন তিনি। তার জোড়া গোলে উচ্ছ্বাসে ভাসেন ব্রাজিল সমর্থকেরা।
ভিনিসিয়ুসের এই অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি আকর্ষণীয় পরিসংখ্যানও। অতীতে যখনই কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন, প্রতিবারই ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে। ফলে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে শিরোপার স্বপ্ন জাগতে শুরু করেছে।
ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি করেন মাতেউস কুনিয়া। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েসের অসাধারণ পাস থেকে সহজ সুযোগ পেয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন তিনি।
তবে ম্যাচের আরেকটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন ব্রাজিলের এই মহাতারকা। দীর্ঘ বিরতির পর তার ফেরায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস।
জয় দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। আর ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম সেলেসাওদের শিরোপা স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।