ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনার পর একে ‘শুভ সূচনা’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে ওমানি মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের, যা এই আলোচনার পেছনের সামরিক গুরুত্বকে স্পষ্ট করেছে।
আরাকচি বলেন, ‘বৈঠকের আলোচনা একান্তভাবেই পারমাণবিক বিষয় নিয়ে ছিল। এখন আলোচকরা পরামর্শের জন্য নিজ নিজ রাজধানীতে ফিরে যাবেন। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনা চলতে থাকবে।’
উল্লেখ্য, ইরান শুরু থেকেই এই আলোচনাকে শুধুমাত্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল, কেবল পারমাণবিক বিষয়ই নয়, বরং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া তাদের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে থাকুক।
বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি ওমানের বৈঠককে ‘শুভ সূচনা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আলোচনা থেকে ফল পেতে হলে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে।’
এদিকে এই বৈঠকের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।’
এমনকি তিনি এরই মধ্যে ইরান উপকূলের কাছে বিশাল নৌবহর এবং বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন পাঠিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে অনাস্থার আবহ ছিল, এটিকে জয় করতে হবে। আর পরবর্তী দফায় সম্ভাব্য আলোচনার বিস্তারিত খুঁটিনাটির বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।