রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ও বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি শুরু করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
মঙ্গলবার উভয় পক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটে থাকা ওলেশকিতে ত্রাণ পৌঁছানো এবং সম্মুখসারির শহরটি থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে।
ইউক্রেনের পার্লামেন্টের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনার ও আলোচক দলের প্রধান দিমিত্রো লুবিনেৎস ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ইউক্রেনীয় পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি শুরুর সময় জানানোর বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ওলেশকিতে মানবিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে মস্কোর সময় ভোর ৪টা থেকে খেরসন শহরের দিকে গোলাবর্ষণ বন্ধ করা হয়েছে। ওলেশকি দিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত, আর নদীর অপর পারে রয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন শহর।
লুবিনেৎস জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনার ইয়ানা লান্ত্রাতোভার সহযোগিতায় এ সমঝোতা হয়েছে।
কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মঙ্গলবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সাউদার্ন ব্রিজ ও মেট্রো অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয় বলে জানিয়েছেন শহরটির কর্মকর্তারা। রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শীও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এ ছাড়া খারকিভ ও পাভলোহ্রাদ শহরেও হামলায় হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের বাহিনী কিয়েভের পরিবহন অবকাঠামো, খারকিভ অঞ্চলের একটি সরবরাহকেন্দ্র এবং অন্যান্য এলাকায় সামরিক কাজে ব্যবহৃত শিল্প স্থাপনা ও পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় ব্রিয়ানস্ক শহরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি বাসে ড্রোন আঘাত হানলে আরও একজন নিহত এবং ৩০ জন আহত হন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব খবর স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
শান্তি আলোচনায় নতুন উদ্যোগ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত এই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিরা রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
গত শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচকেরা নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবুধাবিতে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। ওই বৈঠকে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকে ওলেশকি দখল করে নেয় রুশ বাহিনী। শহরটিতে খাদ্য ও ওষুধের সংকটের মধ্যে নতুন এই যুদ্ধবিরতি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।