
কুড়িগ্রামের কচাকাটা উপজেলায় এক গৃহবধুকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি মোঃ এরশাদ আলী (৩৩)-কে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১।
গ্রেফতারকৃত এরশাদ আলী কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা থানা এলাকার নারায়নপুর ইউনিয়নের কুলাময়া কালারচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিহত শাহিদা খাতুন (২৮)-এর প্রতিবেশী ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, আসামি নিহতের ছোট বোন মোছাঃ শাহানাজ বেগম (১৮)-কে অর্থের বিনিময়ে কুপ্রস্তাব দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিহতের স্বামী মোঃ আজিজুল ইসলাম স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে আজিজুল ইসলামকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিহত শাহিদা খাতুনের স্বামী ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে থাকাকালে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি বাড়ির পাশের টিউবওয়েলে চাল ধোয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁত পেতে থাকা এরশাদ আলী ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কচাকাটা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ সাইফুর রহমান (৫৫) বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মামলা নং-০৫, তারিখ-১৬/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোডে রুজু করা হয়।
হত্যাকাণ্ডটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব-১-এর স্পেশালাইজড কোম্পানি পোড়াবাড়ি ক্যাম্প, গাজীপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই অংশ হিসেবে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুরে তথ্যপ্রযুক্তি, বিশ্বস্ত সোর্স ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১ গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকার দৌলতপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মোঃ এরশাদ আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাসন থানা-য় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।