চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি মস্কো। ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো একের পর এক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এর সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপ যোগ হয়ে দেশটির ওপর সংকট আরও গভীর করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া যে কঠিন সময় পার করছে, তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
রোববার ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া দলের সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়ার জন্য এটি একটি কঠিন সময়। তবে আমরা সব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে সক্ষম হব।’ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের জন্য কঠিন হলেও শিক্ষণীয় বলে উল্লেখ করেন।
রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুতিনের ভাষ্যমতে, কঠিন পরিস্থিতিই রাশিয়াকে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি আসন্ন নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়ার সাফল্যের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুতিন বলেন, সরকার দেশের সামনে থাকা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত এবং সেগুলো মোকাবিলায় কাজ করছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইউক্রেনের নাম সরাসরি না বললেও সীমান্ত ও রুশ ভূখণ্ডে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এদিকে পুতিনের এই বক্তব্যের মধ্যেই রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে এবং এতে একজন নিহত হন। এর কয়েক দিন আগেই মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার ধোঁয়া রাজধানীর উপকণ্ঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের টানা বিমান ও ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। হামলার প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও রসদ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় ক্রিমিয়া ছাড়াও দক্ষিণ রাশিয়া এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে রাশিয়া। তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো ওই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।