
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চাঁদা না পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় তিন শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল শেখ, নবীন কুমার রায়, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল চৌধুরী, শিক্ষক মনিরুল হাসান বুলবুল, শরীফ মাসুদুন নবী, কুতুব উদ্দিন, আসিফ আহমেদ, মামুনুর রশিদসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, “শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। অথচ সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের যেভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। ঘটনার মূল হোতা চাঁদাবাজ লিটন শিকদারকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তারা আরও বলেন, কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে লিটন শিকদার নামে এক যুবক কাশিয়ানী উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তিনি প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার বিকেলে ওই যুবক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং তাকে মারধরের চেষ্টা চালান। এ সময় মাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসিফ আহমেদ বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল শেখের কক্ষে গিয়ে তাকে এবং অপর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নবীন কুমার রায়কেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ঘটনার পর আহত শিক্ষা কর্মকর্তারা কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।