
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিস্তা সেচখালের সংস্কার ও পরিদর্শন সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাজীব ব্রিজ সংলগ্ন পরিদর্শন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে এলাকাবাসী এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, পরিদর্শন সড়কে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। পিচের ওপর হাত দিলেই তা উঠে আসছে, যা নির্মাণ কাজে গাফিলতির প্রমাণ বলে দাবি তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচখালের বাম ডাইক (০ কিমি থেকে ৬.৩৭ কিমি) পর্যন্ত পরিদর্শন সড়ক মেরামত এবং একই খালের (০ কিমি থেকে ৬.৩০ কিমি) উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজগুলোতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শন সড়ক মেরামতের কাজটি (প্যাকেজ: সৈয়দপুর/পরিদর্শন-রাস্তা-১) ঠাকুরগাঁওয়ের ঠিকাদার জামাল হোসেন ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪১ হাজার টাকায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান। ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যাদেশ পেয়ে ২০২৪ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ দেখানো হয়। অপরদিকে, ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজটি (প্যাকেজ: সৈয়দপুর/বগুড়া সেচখাল-০১) ঢাকার নিয়াজ মনা জেভি প্রতিষ্ঠান ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩২ হাজার টাকায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়, যার মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিদর্শন সড়কে নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। পূর্বের রাস্তা পরিষ্কার না করেই তার ওপর পিচ ঢালাই করায় অল্প সময়েই তা উঠে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, হাত দিলেই পিচ-পাথর উঠে আসছে।
এছাড়া ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খালের বেড ও একোয়ারভুক্ত জমি থেকে মাটি তুলে ডাইকে দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্পের শর্তের পরিপন্থী। এতে ডাইক শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী, আব্দুল মজিদ, সেকেন্দার আলী, নাজমুল হক, রুপালী বেগম, মকবুল হোসেন, সোনা বাবুসহ অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, “নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর দিয়ে কাজ করা হয়েছে। হাত দিলেই পিচ উঠে আসছে। আমরা ভালো মানের কাজ চাই।”
সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন হুমকি দেয়। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা কেতা মামুদ বলেন, “ডাইক শক্তিশালীকরণের নামে উল্টো দুর্বল করা হচ্ছে। খাল থেকে মাটি তুলে ডাইকে দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম।”
তবে সাব-ঠিকাদার বাসু দেব দাবি করেন, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে এবং খালের বেড বা একোয়ারভুক্ত জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান ও সহকারী প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে বক্তারা অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের শতভাগ গুণগতমান নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।