যমুনা বাঙালি বিধৌত বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের দেবডাঙ্গা গ্রামের মৃত গিয়াস মোল্লা ও পরিমন বেগম দম্পত্তির মেয়ে বিলকিস খাতুন। জন্মগত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। নিজ চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে না পারলেও প্রতিনিয়ত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো জ্বালাচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিলকিস। শুনতে খুব অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব।
উপজেলার দেবডাঙ্গা কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিলকিস খাতুন। অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হেরে গেছে তার অন্ধত্ব। নানা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে একজন সফল শিক্ষক হিসেবে তিনি এখন প্রতিষ্ঠিত।
বিলকিসের সফলতার গল্প জানতে চাইলে তিনি জানান, ৫/৬ বছর বয়সে যখন সবাই স্কুলে আসা-যাওয়া করতো তখন আমার খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু কোনো উপায় ছিলো না। তারপরেও ২/১ দিন স্কুলে আসলে শিক্ষকদের কথা শুনতে পারলেও ব্লাকবোর্ডের লেখা দেখতে পারতাম না। এরপর আর স্কুলে আসা যাওয়া হয়নি। আমার আপন ভাইও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। সে কোনো মাধ্যমে অন্ধদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরে আমাকে রাজশাহী পিএইচটি সেন্টারে ভর্তি করায়। এরপর আমার মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ হয় জয়পুরহাটের খনজনপুর মিশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে, একইভাবে ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করি। স্নাতক শেষ করে প্রাইমারিতে আবেদন করি এবং প্রথমবার পরীক্ষাতেই টিকে যাই।
২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে নিজ চন্দন বাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন বিলকিস খাতুন। এরপর ২০২৩ সালের ৩০ মে স্থানান্তরের মাধ্যমে যোগদান করেন দেবডাঙ্গা কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কর্মস্থলে খুব আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন বলে জানিয়েছেন বর্তমান কর্মস্থলের সহকর্মীরা।
ব্রেইল পদ্ধতিতে তিনি ক্লাস পরিচালনা করেন। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হয় না। শিক্ষার্থীরা জানান, ম্যাডাম যখন আমাদের পড়ায়, তা আমাদের বইয়ের পড়ার সাথে মিলে যায়। পড়া বুঝতে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। স্বাভাবিক ভাবেই পড়া বুঝা যায়।
সহকর্মীরা জানান, বিলকিস খাতুন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও আমরা তাকে কখনও আমাদের চেয়ে আলাদা মনে করি না। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি, যদিও তিনি নিজের কাজগুলো নিজেই করে থাকেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ইসলাম শিক্ষা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে পাঠদান করান।
দেবডাঙ্গা কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী জানান, বিলকিস খাতুন তার অদম্য প্রতিভার পরিচয় দিয়ে শিক্ষকতা পেশায় এসেছেন৷ আমরা আন্তরিকতার সাথে তার পাঠদানের কৌশলগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। তার পাঠদানে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হয় না।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।