
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও হাদিস বিশারদ হিসেবে দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। হাদিসশাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ছাড়াও পুরো মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত।
১৯৯৮ সালে তার রচিত আল মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসচিব ও উচ্চতর হাদিস গবেষণা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র হিসেবে ২০০৫ সালে তার তত্ত্বাবধানে মাসিক আল কাউসার প্রকাশিত হয়। ২০১২ সালে তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশনের সদস্য মনোনীত হন। পাশাপাশি তিনি ভারতের ইসলামি ফিকহ একাডেমির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মুফতি আবদুল মালেক ১৯৬৯ সালের ২৯ আগস্ট কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার সারাশপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার পিতা শামসুল হক একজন প্রখ্যাত আলেম ছিলেন।
পারিবারিক পরিবেশে কুরআন ও প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি চাঁদপুরের খিড়িহারা কওমি মাদ্রাসায় মিশকাত জামাত পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। ১৯৮৮ সালে পাকিস্তানের জামিয়া উলুমুল ইসলামিয়ায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের উচ্চতর হাদিস বিভাগে তিন বছর অধ্যয়ন করেন।
১৯৯২ সালে তিনি দারুল উলুম করাচিতে ভর্তি হয়ে মুফতি তাকি উসমানির তত্ত্বাবধানে উচ্চতর ফিকহ ও ফতোয়া বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৯৫ সালে সৌদি আরবে গমন করে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.)–এর অধীনে গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
১৯৯৬ সালে ঢাকায় মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া ঢাকার শায়খুল হাদিস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৯ সালে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা উপকমিটির প্রধান মনোনীত হন।
মুফতি আবদুল মালেকের খ্যাতি কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ভারত, পাকিস্তান ও আরব বিশ্বের বহু প্রখ্যাত আলেম তার জ্ঞান ও গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সিরিয়ার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আওয়ামা (রহ.) তাকে ‘মুহাক্কিক আলেম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) তার সম্পর্কে বলেন, “আমি ভেবেছিলাম তিনি আমার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছেন, অথচ বাস্তবে আমি তার কাছ থেকেই বেশি উপকৃত হয়েছি।”
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজ শেষে দুপুর ২টায় ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।