ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের লাঞ্ছিত-মারধরের অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পরীমণি ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের গালাগাল, হাতে খামচি দেওয়া এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন পরীমণি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে।
আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পরীমণি তাকে গালাগাল করেছেন, হাতে খামচি দিয়েছেন এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় পরীমণির নিরাপত্তাকর্মীরাও তার গায়ে হাত দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সকালে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালতে আসেন পরীমণি। তাকে ঘিরে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এতে এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যায়।
সংবাদ সংগ্রহের সময় ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের শিকার হন জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। এ সময় আশিকুজ্জামানের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরে তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেন অভিযোগ করেন, পরীমণি তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন।
ঘটনার পর সাংবাদিকেরা আদালত পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও আইনজীবীরা।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আদালতে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের।
তবে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় গতকাল বুধবার আদালতে হাজির না হওয়ায় পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।