দল করেন আওয়ামী লীগ, কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হচ্ছেন বিএনপি থেকে—এমন ঘটনায় গোপালগঞ্জে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর শ্রিধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর) বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পাওয়ায় জেলাজুড়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিস্ময়, ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মন্তব্যের পাশাপাশি ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলছেন মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে।
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা শরিফুল ইসলাম রোমান সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,
“আমি হতাশ। দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আমাদের বোনদের কী লাভ হলো, যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীকেই বিএনপি থেকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “তিনি কি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন, নাকি বিএনপির সদস্য হয়েছেন?”
টিটো বৈদ্য নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, “অফিসিয়ালি কোথাও তিনি পদত্যাগ করেননি। আওয়ামী লীগের পোস্টধারী নেত্রীর যদি কোনো ত্যাগ-শ্রম ছাড়াই দুই দিনে এমপি হওয়া যায়, তাহলে এটিকে বিএনপির দৈন্য ছাড়া কিছু বলা যায় না।”
কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হয়। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম সাহাবুদ্দিন আজম স্বাক্ষরিত ওই কমিটির ২৭ নম্বরে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর)-এর নাম রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সুবর্ণা সিকদার ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, সুবর্ণা সিকদার মতুয়া সম্প্রদায়ের একজন সদস্য। তিনি ওড়াকান্দির হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য এবং পেশায় একজন শিক্ষক।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।