বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে গোল উদ্যাপনের মুহূর্তে তার চোখে জল দেখে বিস্মিত হন সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে সেই কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করে মেসি জানান, এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং সাম্প্রতিক কিছু ব্যক্তিগত সমস্যাই তাকে আবেগাপ্লুত করে তুলেছিল।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া মেসির শক্তিশালী শট জালে জড়ালে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও তার নিজের প্রথম গোলের দেখা মেলে। গোলের পর যখন গ্যালারিতে উল্লাসে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা, তখন টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখা যায় আবেগে ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
খেলা শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বরাবরের মতোই তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে।’
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে। পঞ্চম মিনিটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি। তবে সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকায় সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। পরে আলজেরিয়ার একটি গোলও বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ১৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচের কৌশল ও প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হতে যাচ্ছে। ওদের দলে খুব ভালো, গতিময় এবং আক্রমণাত্মক কিছু খেলোয়াড় আছে। আমরা ওদের পায়ে বল দিলে ওরা সুযোগ তৈরি করতে পারত। তবে বল আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকার সময়ও আমরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছি। সৌভাগ্যবশত আমরা শুরুতেই লিড নিতে পেরেছিলাম এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক বল দখলে রাখার খেলা খেলতে না পারলেও দল হিসেবে তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে।
প্রথমার্ধের খেলা নিয়ে মেসি বলেন, ‘কিছুটা কঠিন ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল ভিন্ন। যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচই কঠিন হয়, বিশেষ করে বিশ্বকাপে। গত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের ছিল। আর এবারও স্পষ্ট যে, কোনো দলই কাউকে সহজে ছাড় দেবে না।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সম্ভাব্য শেষ অভিযানের প্রথম ম্যাচেই গোল করে দলকে জয়পথে রাখার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবেগের কথাও প্রকাশ করলেন মেসি। তার চোখের জল তাই কেবল একটি গোলের আনন্দ নয়, হয়ে উঠেছে কঠিন সময় পেরিয়ে ওঠার লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবিও।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।