বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা রক্ষার অভিযানে আর্জেন্টিনা এবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়ার। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটিকে যতই সাধারণ গ্রুপ পর্বের লড়াই মনে হোক বাস্তবে তা হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
লিওনেল মেসির জাদুকরী শুরু এর মধ্যেই টুর্নামেন্টে এক অসাধারণ মানদণ্ড তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন, সেই পরিপূর্ণতার উপর দাঁড়িয়ে দলটি কীভাবে এগিয়ে যাবে। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য স্পষ্ট। গ্রুপ জে-তে দ্বিতীয় স্থানে না গিয়ে সরাসরি পরের ধাপে জায়গা করে নেওয়া, যাতে শেষ-৩২ পর্বে স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি না হতে হয়।
ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে শুধু জয় নয়, আর্জেন্টিনার জন্য রয়েছে প্রতীকী গুরুত্বও। শহরটির কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক কটন বোল, যেখানে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারডোনা তার শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন। সেই স্মৃতি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে আজও গভীর আবেগের। এদিকে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ অঘটনের ৪০তম বার্ষিকীতে হওয়ায় ম্যাচটি ভক্তদের মাঝে এক ভিন্ন অনুভূতি যোগ করছেে।
তবে আর্জেন্টিনা শিবিরের মূল লক্ষ্য এখন অতীত নয়, বরং বর্তমানকে আরও উজ্জ্বল করা। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ জানিয়েছেন, আগের বিশ্বকাপের তুলনায় এবার দল অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, শুরুতেই জয় পাওয়া দলকে মানসিকভাবে অনেক সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের ধারাবাহিক উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘গত সাড়ে তিন বছরে আমরা কখনোই থেমে যাইনি, সবসময় উন্নতির চেষ্টা করেছি।’ তিনি মনে করেন, দলের মধ্যে এখনো উচ্চ দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।
প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কিছুটা বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এই দলকে থামাতে হলে নিজেদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে হবে। তার মতে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।
তবে রাংনিক বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার অন্যতম অস্ত্র হতে পারে তাদের উচ্চ চাপের প্রেসিং কৌশল, যা জর্ডানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে অনেকটাই কার্যকর হয়েছিল। তবে আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রিত পাসিং ও আক্রমণাত্মক ছন্দ ভাঙা সহজ হবে না।’
সব মিলিয়ে ডালাসে আজকের ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি আবেগ, ইতিহাস ও বর্তমান সাফল্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ। আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি- যিনি আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।