দেশের সর্ব উত্তর জেলা পঞ্চগড়ের খাদ্য গুদামে এখনো রয়েছে সুবিধাভোগীদের জন্য চাল বরাদ্দের মজুদকৃত চালের বস্তা। যে বস্তায় লেখা ছিল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ,ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ শ্লোগানটি। সেই বস্তায় লেখা শ্লোগানটি অবশেষে কালি দিয়ে নিজ হাতে মুছে দিচ্ছেন খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: রুবেল আলম।
মঙ্গলবার দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে নিজ হাতে এসব চালের বস্তায় শেখ হাসিনার শ্লোগানটি মুছে দিতে দেখা যায় এই কর্মকর্মকর্তাকে।
জানা যায়,ওএমএস ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি আওতায় ১২৩ মে. টন চাল ডিলারদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আজ মঙ্গলবার তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদে সাড়ে ৩শ বস্তাসহ অন্যান্য ইউনিয়নে যাচ্ছে।
জানা যায়,দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় খাদ্য গুদাম ও চাল বিতরণের সময় পতিত সরকার শেখ হাসিনার নাম সংবলিত স্লোগানে বিভিন্ন চালের বস্তায় নাম দেখা যায়। আর এই বস্তার কারনে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এদিকে পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম মুছে দিতে নিজ হাতে কলম ও তুলি হাতে তুলে নিয়েছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শক রুবেল আলম। সকাল থেকেই শ্রমিক ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে তিনি নিজ হাতে কালো কালি দিয়ে প্রতিটি বস্তায় নাম মুছে দিচ্ছেন। ফলে এখন থেকে যে চালের বস্তাগুলো বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও বিতরণ পয়েন্টে যাচ্ছে সেখানেই এসব বস্তা যাচ্ছে। যে বস্তাগুলোতে এখন আর শোভা পাচ্ছে না পতিত সরকারের নাম ও স্লোগান।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রুবেল আলম বলেন,জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অন্তরা মল্লিক মহোদয়ের নির্দেশেনা প্রদান করেছেন এবং সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন। এরই ধারাবাহিকদায় সকাল থেকে বস্তার উপরে নাম ও স্লোগান মুছে দেওয়ার কাজ চলছে। আমরা ৫ আগষ্টের পর থেকে এমন কাজ অব্যাহত রেখেছি৷ তবে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে গিয়ে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কিনা এই সন্দেহ থাকায় আমি ব্যক্তিগত ভাবে নিজেই রং তুলি দিয়ে কাজটি করছি। আমি মনে করছি এটি আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমরা আশাবাদী আমাদের উপজেলা থেকে নাম ও স্লোগান বিহীন চালের বস্তা যাবে প্রতিটি ইউনিয়ন ও চাল বিতরণ পয়েন্টে।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ.দা.) মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, তেঁতুলিয়া খাদ্য গুদামসহ সকল খাদ্য গুদামের এমন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি বস্তায় যেন ভালোভাবে নাম ও স্লোগান মুছে দেওয়া হয় সে নির্দেশনা প্রদান করেছি আমি। আর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমার খাদ্য পরিদর্শক কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
এমআই
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।