চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরেই ‘রক্তে গড়া বন্ধুত্ব’ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কোরীয় যুদ্ধে যৌথ আত্মত্যাগের স্মৃতি এবং ১৯৬১ সালের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু ছয় দশকেরও বেশি সময় পরে ভূরাজনীতির বাস্তবতা অনেক বদলে গেছে। আজ চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান নিরাপত্তা সহযোগিতার সম্প্রসারণ পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণকে নতুন করে বদলে দিচ্ছে।
এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক কি এখনও আদর্শিক ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, নাকি এটি এখন পুরোপুরি পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থের জোট? ৬৫ বছর পূর্ণ করা দুই দেশের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি সেই প্রশ্নকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
১৯৬১ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন চীনের প্রধানমন্ত্রী ঝৌ এনলাই এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সুং বেইজিংয়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে উল্লেখ রয়েছে, দুই দেশের যেকোনো একটি সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশ তার সহায়তায় এগিয়ে আসবে। এখন পর্যন্ত এটিই চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট, যা বেইজিংয়ের নিরাপত্তা নীতিতে এর বিশেষ গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।
চলতি সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থে সং তিন দিনের সফরে বেইজিংয়ে যান। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব চুক্তির বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়, যা চুক্তিটির বর্তমান গুরুত্বেরই একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গত ৬৫ বছরে দুই দেশের পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একসময়ের দরিদ্র বিপ্লবী রাষ্ট্র চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া এখনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
এরপরও দুই দেশের জোট টিকে আছে। শীতল যুদ্ধের অবসান, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে চীনের সংযুক্তি, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দশকের উত্তেজনার পরও এই সম্পর্ক ভেঙে পড়েনি। তাহলে এত পরিবর্তনের পরও কেন এই জোট টিকে আছে? বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো, দুই দেশের কেউই এই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না।
চীনের লক্ষ্য স্থিতিশীলতা
চীন-উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে কোরীয় যুদ্ধের সময়। ১৯৫০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী চীনের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে বেইজিং উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে কয়েক লাখ সেনা পাঠায়।
চীন তাদের ‘স্বেচ্ছাসেবক’ বলে অভিহিত করলেও, তারা চীনের নেতৃত্বেই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির শিকার হয়। এই যৌথ যুদ্ধের ইতিহাস এখনও দুই দেশের সরকারি বর্ণনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন ও উত্তর কোরিয়ার নেতারা প্রায়ই তাদের সম্পর্ককে ‘রক্তে সিলমোহর দেওয়া বন্ধুত্ব’ বলে উল্লেখ করেন।
আদর্শগত দিক থেকেও দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। উভয় দেশই সমাজতান্ত্রিক একদলীয় রাষ্ট্র এবং পশ্চিমা শক্তির প্রতি গভীর সন্দেহ পোষণ করে। পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন সেনা উপস্থিতিরও বিরোধিতা করে তারা। বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তার কর্তৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃত দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামরিক জোট, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তবে আদর্শগত মিলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চীন বিদেশি বিনিয়োগ, বেসরকারি উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যকে গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া এখনও অনেকটাই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন।
বর্তমানে বেইজিং নিজেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চায়। বিপরীতে পিয়ংইয়ং নিজেকে বিশ্বের কাছ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন রেখেছে। চীন স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিলেও উত্তর কোরিয়া প্রায়ই অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ, কৌশলগত সুবিধা বা ছাড় আদায়ের চেষ্টা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রধান লক্ষ্য উত্তর কোরিয়াকে আরও শক্তিশালী করা নয়; বরং দেশটিকে স্থিতিশীল রাখা। কারণ বেইজিং চায় না উত্তর কোরিয়ার সরকার ভেঙে পড়ুক। এমনটি হলে প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার (৮৭০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত দিয়ে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী চীনে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ একটি একীভূত কোরিয়া গঠনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই উত্তর কোরিয়া চীনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বাফার রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে, যা চীন ও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির মধ্যে একটি ভৌগোলিক ও নিরাপত্তাগত ব্যবধান সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া চীন এই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধও চায় না। কারণ যুদ্ধ শুরু হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে এবং চীনের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পারমাণবিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণেই উত্তর কোরিয়ার প্রতি চীনের অবস্থান অনেক সময় পরস্পরবিরোধী মনে হয়। অতীতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করলেও, বেইজিং এমন কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে, যা দেশটির সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং চায় উত্তর কোরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকুক এবং স্থিতিশীল থাকুক; তবে এমন অবস্থায় না পড়ুক, যাতে তারা কোণঠাসা বা মরিয়া হয়ে ওঠে।
উত্তর কোরিয়াও বিকল্প চায়
দীর্ঘদিন ধরে চীন ছিল উত্তর কোরিয়ার প্রধান কূটনৈতিক মিত্র ও রক্ষাকবচ। তবে একই সময়ে পিয়ংইয়ংও চায় না, তারা পুরোপুরি বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ুক।
রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে, যাতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিধানও রয়েছে। এরপর থেকে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জন্য রাশিয়া এখন আরেকটি শক্তিশালী মিত্র। এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার কৌশলগত পরিসর বেড়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি, জ্বালানি সম্পদ এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি একদিকে কিছুটা সুবিধাজনক হলেও, অন্যদিকে অস্বস্তিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার সম্পৃক্ততা উত্তর কোরিয়াকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমাতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় বৃহত্তর একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হলে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পারমাণবিক কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও বাড়তে পারে। এতে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলকে চীন তার নিজস্ব কৌশলগত প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজের প্রভাব রাশিয়ার কাছে হারাতে চায় না বেইজিং।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চীন ও উত্তর কোরিয়াকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে এবং তিন দেশ নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করছে, তখন বেইজিং ও পিয়ংইয়ং নিজেদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
এদিকে জাপানও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। ইতিহাসের অভিজ্ঞতার কারণে সম্প্রসারণবাদী জাপান নিয়ে চীনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। ফলে টোকিওর এই পদক্ষেপ বেইজিংয়ের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এখনও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাকে চীন নিজেদের প্রভাব সীমিত করার যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখে। আর উত্তর কোরিয়ার দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ যুদ্ধের প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত।
যদিও চীন ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ পুরোপুরি এক নয়, তবুও অনেক ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের মিল রয়েছে। এ কারণেই অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনে গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।
আবেগ নয়, কৌশলগত প্রয়োজন
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৬৫ বছরে এই জোট বর্তমান রূপে থাকবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দেশটির অবস্থানও আগের চেয়ে আরও কঠোর হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক পরিসরে চীনের প্রভাব ও ক্ষমতা বেড়েছে। তবে কোরীয় উপদ্বীপে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তার ক্ষতিও বেইজিংয়ের জন্য অনেক বেশি হতে পারে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতা ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অতীতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করত চীন এবং পিয়ংইয়ংকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের সমালোচনা অনেকটাই নীরব হয়ে গেছে।
সম্প্রতি পিয়ংইয়ং সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রসঙ্গই তোলেননি। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলে কিম জং উন আরও বেশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই বেইজিং এখন বেশি সতর্ক।
একই সময়ে চীন বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি এমন একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। সে লক্ষ্য পূরণে বেইজিংকে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে একদিকে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরোধিতায় উত্তর কোরিয়ার পাশে থাকা, অন্যদিকে পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এমন কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরে রাখা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।