চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। চীনের সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ছয়টি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর প্রসঙ্গে আজ রোববার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে আমি চীন সরকারের সঙ্গে ছয়টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘চীনের মতো একটা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন দেশের কাছ থেকে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নিয়ে গবেষণা করার জন্য আমরা একমত পোষণ করেছি। আমাদের এই যৌথ তৎপরতার মধ্য দিয়ে বর্তমানের যে নিউ মিডিয়া সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে আমরা একটা নতুন গুণগত পরিবর্তন দিতে পারব বলে আমরা আস্থাবান।’
গত বৃহস্পতিবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি ছুয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরপর মধ্যে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এসবের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী ও পার্লামেন্টের স্পিকারের মতো সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে সম্মান ও গুরুত্ব পেয়েছি এবং যে আলোচনা হয়েছে তাতে আমরা আশাবাদী যে, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আমাদের দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মর্যাদা ও সম্মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দুটি চুক্তি এবং বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চীনে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। চীনের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় আমরা মুগ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলের প্রতি চীনের যে আন্তরিকতা, তা প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশের জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও ভালোবাসারই প্রতিফলন।’
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (তারেক রহমানের সঙ্গে শি জিনপিং এর বৈঠকে) উল্লেখ করেছেন যে এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক গুণগতভাবে একটা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে, যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।
গত ১২ জন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন সফর করেন। চীনের চার দিনের সফরের মধ্যে দুদিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে তালিয়ানে। এরপর বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং আসেন।
বেইজিংয়ে সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী লি ছুয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং পরে একান্ত বৈঠক করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী চীনে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসব বৈঠকগুলো সবই হয়েছে চীনে ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’।
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, তিনজন প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহদী আমিন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।