
রংপুর নগরীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হিন্দু ধর্মালম্বীদের দুই পক্ষের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সমাধান না হওয়ায় দেওয়া হয়নি প্রতিমা বিসর্জন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হতে গভীররাত পর্যন্ত কয়েকদফা চেষ্টার পরেও মিলেনি সমাধান।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ওসি তদন্ত মিলন চ্যাটার্জী।
এর আগে গতকাল বুধবার নগরীর ঠিকাদারপাড়ায় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে।
স্থানীয়রা জানান, ২০০৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্থানীয় দশরথের তিন শতক জমিতে মন্দির স্থাপন করে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চলতিবছর পূজা উদযাপন কমিটি দূর্গাপুজার পরেও কালি প্রতিমাসহ অন্য প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের প্রস্তুতি নেয়। বুধবার প্রতিমার বিসর্জনের সময়ে জমির মালিক দশরথ সকল প্রতিমা নামিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানালে দশরথ ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপরেই প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে পূজা উদযাপন কমিটিসহ হিন্দু ধর্মালম্বীদের একটি গ্রুপ। অপরপক্ষে নিজের একমাত্র জমি উদ্ধারের জন্য সকল প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জমির মালিক দশরথ তার লোকজনস রাস্তার অপরপাশে অবস্থান নেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার ভারপ্রপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মিলন চ্যাটার্জি জানান, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও অচলাবস্থা এখনো আছে। যে পক্ষ পূজা করেছে তারা প্রতিমা বিসর্জন দিতে চায় ,কিন্তু মন্দির খালি করতে চায় না,মন্দিরের দখল ধরে রাখতে চায়। আর জমির মালিকপক্ষের দাবি মন্দির খালি করে দিয়ে মন্দিরের নতুন পুরাতন সকল প্রতিমা নামিয়ে নিতে হবে। আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে গভীররাত পর্যন্ত সমাধানের চেষ্টা করছি। এখনো প্রতিমা বিসর্জন হয়নি।’
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।