ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে একই মামলায় জাতীয় যুবশক্তির সংগঠক অয়ন রহমান খানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহের একটি স্থানীয় আদালত এই আদেশ দেন। এনসিপির দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে তারেক রেজা ও অয়ন রহমান খানের পক্ষে জামিন শুনানি করেন এনসিপির আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা, সহ-আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন, অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন নাসের, অ্যাডভোকেট মমিনুল হাসান ও অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন।
এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের স্টেডিয়ামসংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা-পুলিশ তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে একই মামলায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের জনতা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন বাবার পাশে থাকা অবস্থায় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা অয়ন রহমান খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার তাদের ঝিনাইদহ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় ওই মিলনায়তনে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তারেক রেজা। তিনি সেখানে পৌঁছামাত্রই ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান, পুলিশের বিশেষ টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে আটক করেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তারেক রেজা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, সেই বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের জন্য ফ্যামিলি জোনে যাচ্ছি। জানতে পেরেছি সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে সেখানে পুলিশ ও ছাত্রদলের কর্মীরা অবস্থান করছে। তারপরও আমি সেখানে যাব। গ্রেপ্তার হলে হব।’
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত শনিবার জেলা ছাত্রদলের এক নেতার করা মামলায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে সাহেদ আহম্মেদের পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার রাতেই এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় আট নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। এই মামলার আসামিরা রোববার আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
প্রথম মামলার জের ধরে পরদিন শনিবার দুপুরে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির বাদী হয়ে তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। এই মামলায় তারেক রেজার বিরুদ্ধে হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়।
শনিবারের করা ওই পাল্টা মামলার ভিত্তিতেই রোববার সন্ধ্যায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে একই মামলায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের জনতা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন বাবার পাশে থাকা অবস্থায় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা অয়ন রহমান খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় তাদের ঝিনাইদহ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ তারেক রেজা জামিন পেলেও কারাগারেই রয়েছেন অয়ন রহমান খান।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।