
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আব্দুর রহমান মাসুম ওরফে ‘মোল্লা মাসুম’-কে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। হামলার আগে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বৈঠক করে লোকজন জড়ো করা এবং অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে মোল্লা মাসুমকে দেখা গেছে। তাঁকে শনাক্ত করা হয়ে থাকলে হামলায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কড়াইল বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, হামলার আগের রাতে বস্তির বিভিন্ন স্থানে মোল্লা মাসুমের নেতৃত্বে কয়েকজনের বৈঠক হয়। সেখানে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া কয়েকজন কড়াইল বস্তিকেন্দ্রিক অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত।
প্রতিবেদনে মোল্লা মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিবরণ এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট থানার নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে মহাখালী ওয়্যারলেস গেটে বৈশাখী টেলিভিশনের পাশের একটি গলিতে হেলমেট পরা অবস্থায় ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। টেলিভিশনটির একটি কাজের দরপত্র পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা না পেয়ে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল মহাখালী থেকে আলমগীর নামের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্মাণাধীন ভবনে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মোল্লা মাসুম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অভিযানে র্যাব-১ দুটি পিস্তলসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হস্তান্তর করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছরের ৭ মে গাজীপুরের পুবাইল থানা এলাকায় ইয়াবাসহ তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার অপরাধে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব মামলার নথি, গ্রেপ্তার ও জামিনের তারিখ এবং অভিযোগগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসভবনের সামনে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে একদল লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যোগাযোগ; জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’।
জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বলেন, “একটি ব্যানার নিয়ে একদল দুষ্কৃতকারী জাপা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। ভেতরে ঢুকতে না পেরে তারা দরজা-জানালায় ইট-পাথর নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, মিছিলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা চলে যায়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ঘটনার পরিকল্পনা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।