জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেনিয়ায় বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জনের বেশি মানুষ। দেশব্যাপী গণপরিবহন ধর্মঘটের সমর্থনে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলে পুলিশের সঙ্গে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন জানিয়েছেন, সোমবারের সহিংস ঘটনার পর সারা দেশে অন্তত ৩৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সহিংসতায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও বেশিরভাগ অঞ্চল শান্ত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও অপরাধচক্র নিজেদের স্বার্থে পরিস্থিতিকে উসকে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী নাইরোবিতে সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ আরও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।
পরিবহন ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে দেশের বড় শহরগুলোতেও। মোম্বাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে হেঁটে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দেখা গেছে। এতে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারকে দ্রুত বাড়ানো জ্বালানির দাম প্রত্যাহার করতে হবে। গত মাসে জ্বালানির মূল্য ২৪ শতাংশের বেশি বাড়ানোর পর সম্প্রতি আবারও প্রায় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
অন্যদিকে কেনিয়ার জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ সংকটের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।