
যশোরের ঝিকরগাছায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ও পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবৈধ থ্রি-হুইলার, দোকানপাট ও দখলদারিত্বের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের সীমিত ও লোকদেখানো তদারকিতে পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ঝিকরগাছা পৌর সদরের বাজার সংলগ্ন যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর ও দু’পাশে গড়ে উঠেছে প্রায় দুই শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী অবৈধ দোকান। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ও প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের পরিচালিত থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, ইজি-বাইক, নসিমন-করিমন) পাহাড়সম মালামাল নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে চলাচল করছে মহাসড়কে। এসব যানবাহনের সড়কে চলাচলের কোনো বৈধ অনুমতি না থাকলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।
ফলে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ, পরিবার হারাচ্ছে উপার্জনক্ষম সদস্যকে। অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে একের পর এক পরিবার। অথচ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পৌর প্রশাসন ও নাভারণ হাইওয়ে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার ২০১৫ সালের আগস্টে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতও একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছেন। ২০১৪ ও ২০১৭ সালে মহামান্য হাইকোর্ট মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধে নির্দেশ দেন। তবে আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও দুর্নীতির অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ঝিকরগাছা পৌর সদরের কৃত্তিপুর থেকে হাজেরালী বালিখোলা পর্যন্ত মহাসড়কের ওপর ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, গাড়ি ধোয়ার স্থান, স’মিলের কাঠ, ফার্নিচারের মালামাল, ঢেউটিনের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ফলের আড়ত, চা-পানের দোকান, কাপড় ও জুতার দোকানসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি মহাসড়কের ওপর যশোর-বেনাপোল রুটের বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
এছাড়া অবৈধ থ্রি-হুইলার স্ট্যান্ড ও দোকানপাট থেকে দৈনিক ও মাসিক মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ব্যস্ততম সড়কে ক্রেতা-বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে পণ্য কেনাবেচা করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতি জেনেও প্রশাসনের স্থায়ী নজরদারির অভাবে অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে নাভারণ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মহাসিন হোসেন বলেন, “আমরা নিয়মিত থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। মহাসড়কের পাশের এলাকা যদি পৌরসভার আওতায় পড়ে, তবে উপজেলা বা পৌর প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ঝিকরগাছা পৌরসভার প্রশাসক দেবাংশু বিশ্বাস বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।