যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৬নং ঝিকরগাছা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ছিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসায় জাল সহি ব্যবহার করে বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার পরিচ্ছন্নতা কর্মী মো. ইস্রাফিল হোসেন দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলেও তার স্ত্রী লাবনী খাতুন তার নাম ব্যবহার করে বেতন তুলে নিচ্ছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি মাদ্রাসায় যোগ দেন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ইস্রাফিল হোসেন। কিন্তু চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে তিনি বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত রয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম সুলতান মাহমুদ গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা পরিদর্শনে গিয়ে হাজিরা খাতায় তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করে মন্তব্য (“ডিম্বকার চিহ্ন”) দিয়ে আসেন।
তবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে হাজিরা খাতায় সহি না থাকলেও বেতন শীটে ইস্রাফিল হোসেনের নামে নিয়মিত বেতন উত্তোলন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও এডহক কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমানের অনুমোদনেই তার স্ত্রী লাবনী খাতুন জাল সহিতে বেতন তুলছেন।
মাদ্রাসার অলিখিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটিএম আব্দুল আহাদ বলেন, “ইস্রাফিল হোসেন মাদ্রাসায় আসেন না। তার পরিবর্তে তার স্ত্রী কাজ করেন। আমার জানা মতে তার কোনো ছুটির আবেদনও নেই।”
মাদ্রাসার আশপাশের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ইস্রাফিল মাসের পর মাস মাদ্রাসায় আসে না। তার হাজিরা খাতা ফাঁকা থাকলেও স্ত্রী তার সহি নকল করে বেতন তোলেন। অধ্যক্ষ ও সভাপতি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।”
অন্যদিকে, লাবনী খাতুন বলেন, “আমার স্বামী তিন মাস ধরে ভারতে আছেন। অধ্যক্ষ ও সভাপতি আমাকে বলেছেন সহি করে বেতন তুলতে, তাই করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকের পরিচয় জানার পর কল কেটে দেন।
এডহক কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “আমি সভাপতি হওয়ার আগ থেকেই ইস্রাফিল মাদ্রাসায় আসেন না। মানবিক দিক বিবেচনায় তার স্ত্রীকে কাজ করতে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সম্মতি ক্রমে বিল ছাড়তে হয়েছে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম সুলতান মাহমুদ বলেন, “এই বিষয়ে আমি তিন দিনে নয়বার অধ্যক্ষকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।