সাদা মাথা, গাঢ় বাদামি বিশাল দেহ আর ডানা মেললেই চারপাশজুড়ে ভেসে ওঠে ভয়ংকর বিশালত্ব—প্রায় আট ফুট বিস্তৃত ডানার এই পাখিটি দেখতে দানবাকৃতির হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতির এক নীরব প্রহরী। এটি হিমালয়ের গৃধিনী শকুন—একটি বিপন্নপ্রায় বিরল প্রজাতি। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এই শকুনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামে একটি মাঠে অসুস্থ অবস্থায় বিশাল আকৃতির শকুনটিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাখিটির এমন অবস্থা দেখে এলাকায় দ্রুত কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী নাজমুল হোসেন। তিনিই পাখিটিকে বিরল হিমালয়ের গৃধিনী শকুন হিসেবে শনাক্ত করেন।
নাজমুল হোসেন জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে হিমালয় অঞ্চলে প্রচণ্ড শীত পড়লে এসব শকুন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ এলাকায় চলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ যাত্রাপথে খাবারের সংকটে পড়ে পাখিটি অসুস্থ হয়ে গেছে। বিশাল আকৃতির এই শকুনটি দেখতে স্থানীয়রা ভিড় করেন।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, উদ্ধারকৃত শকুনটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
উপজেলা বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে শকুনটির চিকিৎসা চলছে। নাটিমা গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া এই বিপন্নপ্রায় পাখিটির দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১২ কেজি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।