ঝিনাইদহ জেলার অন্তত অর্ধশত সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দুই হাজার গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
জানা গেছে, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে ফাইল নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে সেবামূলক কার্যক্রমে বিলম্ব বাড়ছে।
সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, একটি কাজ সম্পন্ন করতে তাদের একাধিকবার জেলা শহরে আসতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অভাবে ফাইল দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা গেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত, ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ অফিস, এলজিইডি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, মৎস্য বিভাগ ও শিক্ষা বিভাগসহ অন্তত অর্ধশত দপ্তরে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, সাধারণ শাখায় এসিল্যান্ড, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও ড্রাফটম্যান পদ শূন্য রয়েছে। ৮টি কানুনগো পদের সবগুলোই খালি। ৭০টি নায়েব পদের মধ্যে ১৬টি এবং ৭০টি সহকারী নায়েব পদের মধ্যে ৫৮টি পদ শূন্য। রাজস্ব শাখায় ২২৩টি পদের মধ্যে ৬৪টি পদে কোনো জনবল নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগে সংকট আরও প্রকট। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যানুযায়ী, চিকিৎসকের ৩২২টি পদের মধ্যে ১৮২টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ২৩৯টির মধ্যে ১৪০টি, অফিস সহায়ক ৫২টির মধ্যে ২৫টি, ওয়ার্ড বয় ১৫টির মধ্যে ৯টি, সুইপার ৩৩টির মধ্যে ১৭টি এবং আয়া পদের ১০টির মধ্যে ৭টি পদ শূন্য রয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ৮০১টি পদের মধ্যে ২৬৭টি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ২৮২টির মধ্যে ১০২টি পদ খালি রয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ের সেবায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া জেলা পরিষদ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি অফিসেও দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। আয়কর অফিসে স্থায়ী জনবল না থাকায় অন্য অঞ্চল থেকে কর্মকর্তা এনে কাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা না থাকায় নামজারি কার্যক্রম ধীরগতির। ইউনিয়ন পর্যায়ের ভূমি অফিসে ৭৪টি পদ শূন্য থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়া ইসলামি ফাউন্ডেশন, বিটিসিএল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, সরকারি মূক ও বধির স্কুল, ম্যাটস, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি ও সরকারি শিশু হাসপাতালেও তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। ঝিনাইদহ বিটিসিএল অফিসে ১৯৯৯ সালের পর থেকে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জানান, সীমিত জনবল দিয়েই সেবা চালু রাখার চেষ্টা চলছে। কিছু পদে মামলা জটিলতা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। অধিকাংশ নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।