
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা শেড (SHED) বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ‘যুব-নেতৃত্বাধীন শান্তি বিনির্মাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি উদ্যোগ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এর লেদা এলাকায়। শেডের প্রতিনিধি আসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয়ের কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ সোহেল।
এ সময় বক্তব্য দেন সিএমএ শাহাদুল ইসলাম, শেডের পিসবিল্ডিং প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম, ইয়ুথ চ্যাম্পিয়ন তানজিনা মোহাম্মদ জয়া এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান।
বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরে হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় দ্বিতীয় পর্বের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হ্নীলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাহেমা আক্তার। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী যুবকদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।
এরপর যুব পিসবিল্ডাররা নিম, আম, জাম, বাদাম, পেয়ারা ও শিশু গাছসহ বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। সড়কের বিভিন্ন স্থান ও জনসমাগম এলাকায় এসব চারা রোপণের পাশাপাশি গাছগুলোর পরিচর্যা ও সুরক্ষার বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করা হয়।
কর্মসূচিতে কাইকাই রাখাইন এডুকেশন গ্রুপের সদস্য হেমেওয়ান রাখাইন, সাগরিকা আক্তার, কাকন দাশ, পিসবিল্ডার রবিউল আলমসহ স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করেন।
আয়োজকরা জানান, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা চর্চা উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করা।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। স্থানীয় ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকারীরা আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।