সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের প্রস্তুতিকালে কক্সবাজারের টেকনাফে সৈকত এলাকা থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন কিশোর-কিশোরী। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য নৌকায় করে সাগরের দিকে পালিয়ে যায়।
আজ রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরীঘাট এলাকা দিয়ে কয়েকজনকে জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিজিবি সদস্যরা ঘাটে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেখতে পান। এ সময় সমুদ্র থেকে একটি সন্দেহজনক নৌকা ঘাটের দিকে আসতে দেখে সেটিকে ধাওয়া করি।
একপর্যায়ে পাচারচক্রের ১০ থেকে ১৫ সদস্য দ্রুত নৌকায় উঠে সাগরের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ৯ জনকে উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
জানা গেছে, উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ ও ১৬ বছর বয়সী দুজন কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। অন্যরা কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী ও উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার ব্যক্তিরা তাদের জোরপূর্বক মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন। উদ্ধার ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় মানব পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।