
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলায় ছিল ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যও—যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক অষ্টমাংশ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না। সেই নিয়মেই অধিকাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ–এর প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।
এই আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন—
গণঅধিকার পরিষদ–এর ফারুক হাসান
জাতীয় পার্টি–এর নুরুন নাহার বেগম
এবি পার্টি–এর নাহিদ রানা
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি–এর সাহাবউদ্দিন আহমেদ
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ–এর রেজাউল ইসলাম
সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ছিল এই আসনে—মোট ১০ জন। এর মধ্যে আটজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন পাঁচবারের সাবেক সাংসদ ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
এছাড়া জামানত হারিয়েছেন—
গণঅধিকার পরিষদ–এর মামুনুর রশিদ
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ–এর আল আমিন
সুপ্রিম পার্টি–এর আবুল কালাম আজাদ
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি–এর প্রভাত সমীর
শাহাজাহান আলম
বাংলাদেশ মাইনোরিটি পার্টি–এর কমলা কান্ত রায়
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ–এর এস এম খলিলুর রহমান
স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি জানান, জেলায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা ছাড়া অধিকাংশ প্রার্থীই জামানত ফেরত পাননি।
এই ফলাফল স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, বড় রাজনৈতিক দলের বাইরে ছোট ও নতুন দলগুলোর প্রার্থীরা এবার ভোটের মাঠে কার্যকর অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। বিশেষ করে একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞ প্রার্থীর জামানত হারানো ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই চিত্র তাই শুধু জয়-পরাজয়ের পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে ভোটারদের মনোভাব ও শক্তির ভারসাম্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক, এটিএম রাকিবুল বাসার কর্তৃক প্রকাশিত এবং শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস, ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত।